| বঙ্গাব্দ

২১ ঘণ্টায় ট্রাম্পকে ডজনবার ফোন ভ্যান্সের | ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্য কারণ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-04-2026 ইং
  • 1032490 বার পঠিত
২১ ঘণ্টায় ট্রাম্পকে ডজনবার ফোন ভ্যান্সের | ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্য কারণ।
ছবির ক্যাপশন: ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্য কারণ।

ইসলামাবাদ টকস: ২১ ঘণ্টায় ট্রাম্পকে ডজনখানেক ফোন ভ্যান্সের, তবুও কেন মিলল না সমাধান?

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতি

সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | বিকেল ৩:৩০

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে এই ২১ ঘণ্টায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। জেডি ভ্যান্স নিজেই স্বীকার করেছেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে অন্তত ১২ বার ফোনে কথা বলেছেন। শুধু ট্রাম্পই নন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও সারাক্ষণ যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।

১. পারমাণবিক প্রশ্নে অনড় ওয়াশিংটন

আলোচনা কেন ভেঙে গেল? জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে এর পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি জানিয়েছেন, মূল বিরোধের জায়গাটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে এমন এক ‘স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি’ চেয়েছিল যা নিশ্চিত করবে যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা এর সক্ষমতা অর্জন করবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘লং-টার্ম গ্যারান্টি’ দিতে ইরান অস্বীকৃতি জানানোতেই ভেস্তে গেছে সব।

২. ইরানের চোখে ‘অযৌক্তিক’ দাবি

অন্যদিকে, ইরান এই ব্যর্থতার জন্য সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও মার্কিন পক্ষের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে কোনো অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। তেহরানের মতে, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তিতে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

৩. ভ্যান্সের ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব

জেডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা একটি ‘ফাইনাল অ্যান্ড বেস্ট অফার’ বা চূড়ান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা সৎভাবে আলোচনা করছিলাম এবং সব সময় হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগে ছিলাম। আমরা একটি শক্তিশালী প্রস্তাব নিয়ে ফিরছি, যদিও বর্তমানে কোনো ডিল হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আমরা আশাবাদী।”


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২১ ঘণ্টায় ১২ বার ট্রাম্পের সাথে কথা বলা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প নিজে এই আলোচনার প্রতিটি শব্দ নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। কিন্তু পারমাণবিক ইস্যু এমন এক ‘রেড লাইন’ যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, আর তার আগে এই ব্যর্থতা বিশ্বকে আবার যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।


ইসলামাবাদ আলোচনার মূল ৩টি ফ্যাক্টর:

  • ট্রাম্পের রিমোট কন্ট্রোল: জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই আলোচনার গতিপথ ঠিক করে দিচ্ছিলেন।

  • নিরাপত্তা টিমের পরামর্শ: অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার ও মার্কো রুবিওদের মতো কট্টরপন্থীরা এই আলোচনার পেছনে সক্রিয় ছিলেন।

  • পারমাণবিক ডেডলক: ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কোনো ছাড় দেয়নি, আর যুক্তরাষ্ট্রও গ্যারান্টি ছাড়া সরেনি।


উপসংহার: অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

শান্তি আলোচনার এই ফলহীন সমাপ্তি তেলের বাজার থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ২২ এপ্রিলের পর কি ট্রাম্প প্রশাসন আরও বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপের দিকে যাবে? নাকি পর্দার আড়ালে আবার কোনো মধ্যস্থতা শুরু হবে? উত্তর দেবে সময়।

আপনার মতামত: ট্রাম্প প্রশাসনের এই 'কঠোর শর্ত' কি সত্যিই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পারবে, নাকি এটি যুদ্ধের পথকেই প্রশস্ত করছে? কমেন্টে জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency